Friday, March 27, 2020

হারিয়ে ফেলার গল্প

ভেবেছিলাম তুমি আসবে! ভোরের কুয়াশায় হাটবো তোমার হাতটি ধরে।কিন্তু তুমি এলেনা ভেবে ছিলাম পড়ন্ত বিকেলে হয়তো গোধূলি লগ্নে তোমার দেখা পাবো! তখনো তুমি এলেনা ভেবে ছিলাম সন্ধ্যা তারাদের মাঝে তোমায় খুঁজে পাবো! অবশেষে খুজে পেলাম ঠিকই,কিন্তু তুমি ছিলো ঐ দূর আকাশে । আমার দিকে ফিরেও তাকালেনা। ভাবনা আমার ভাবনাই রয়ে গেলো বাস্তব আর হলোনা……!!

সেক্স করার পর

ভার্সিটিতে ফার্স্ট ইয়ারে পড়তাম তখন । ছুটিতে বাসায় গিয়েছিলাম । রাতের ট্রেনে বাসা থেকে হলে ফিরছি ।একা একা নাইট জার্নি করে যাচ্ছি তাই আব্বু , আপু আর আম্মু বেশ টেনশান করছিল । ফোন দিয়ে আমাকে অস্থির করে তুলছিল । ঘুমাতে পারছিলনা ।
ট্রেন ছাড়ল রাত ১১ টার অনেক পরে ।আম্মু ১১টার অনেক আগেই ঘুমিয়ে যায় কিন্তু সেদিন জেগে ছিল ,আম্মুকে ফোন করলাম । আম্মু ঘুমালো ।

নেশা যখন চটি গল্প পড়া

“ভাই, আপনার ফোন থেকে একটা কল করা যাবে”?
ঘুরে তাকালাম আমার পাশের সিটে বসা প্রশ্নকারীর দিকে । ২৪/২৫ বছরের মতো বয়স। নিম্নবিত্ত
কিছুটা অবাক হয়ে বিরক্তি মাখা সুরেই বললাম, “হ্যাঁ করেন” ।
আমার বিরক্তিটা সহজেই টের পেয়ে গেল সে । কৈফিয়ত দেবার মতো করে বলল , “ভাই আমার ফোন টা হারায়ে গেসে গতকাল ।বুড়া মা বাসায় চিন্তা করছে । ফোন না করলে আমার মা টা ঘুমাতে পারবেনা”।

সে আমার ফোন থেকে তার পাশের বাসায় ফোন করল ( তার মায়েরও ফোন নেই)। তার মাকে জানাতে বললো সে ভালোমতো ট্রেনে উঠেছে ।
একটা বিশাল প্রজন্ম গড়ে উঠেছে এবং উঠছে যারা প্রাইমারী স্কুলের গন্ডি পার হবার আগেই চরম অশ্লীলতার জগতটার সঙ্গে পরিচিত হয়ে যাচ্ছে , যারা মা ,বোন ,কাজিন,ভাবী ,খালা, চাচী,মামী এদের নিয়ে লিখা চটি গল্প পড়ে আর রাত দিন এদের নিয়ে সেক্স ফ্যান্টাসীতে ভোগে । খুব চটকদার স্লোগান শোনা যায় আমাদের এই জেনারেশান নিয়ে , এরা নাকি দেশটার অবস্থা বদলে দেবে , যতদিন ওদের হাতে দেশ, ততদিন নাকি পথ হারাবে না বাংলাদেশ......... এরা নিজেরাই তো পথ হারিয়ে ফেলেছে ,এরা আবার কি পথ দেখাবে ?

চটি গল্প পড়ার সময় পাঠক অনেককক্ষন ধরে বিষয় গুলো নিয়ে চিন্তা করার সময় পায় , ইচ্ছে হলেই পড়া বন্ধ করে সেক্স ফ্যান্টাসীতে ডুবে যায় । কিন্তু পর্ণ মুভিতে তার এ সুযোগ থাকে সীমিত । ঘটনার দ্রুত পট পরিবর্তন হয় , চিন্তা করার খুব একটা সময় থাকে না চটি গল্পে পড়া জিনিস গুলো এর পাঠকের মস্তিষ্কে খুব বেশী সময়ের জন্য পাকাপোক্ত আসন গেড়ে বসে । সারাক্ষন মাথার মধ্যে কৃমির মতো কিলবিল করতে থাকে গল্পের ঘটনাগুলো । সহজেই রেহাই পাওয়া যায়না বিকৃত অবাধ্য চিন্তাগুলোর হাত থেকে ।
আমাদের এই সিরিজে ইনশাআল্লাহ্‌ আমরা আলোচনা করব ভয়ংকর এই আসক্তি নিয়ে । প্রথমে ইনশা আল্লাহ্‌ আমরা চেষ্টা করব চটি গল্পের ধাপ্পাবাজির দিকটা তুলে ধরার , তারপর আলোচনা করা হবে এর ভয়াবহতা সম্পর্কে এবং সর্বশেষে ইনশা আল্লাহ্‌ কিছু টিপস দেওয়া হবে চটি গল্পের আসক্তি দূর করার জন্য
১) ভাই, চটি গল্পে আপনি যা পড়ছেন বা পড়েছেন তার আগাগোড়া ষোল আনাই মিথ্যে । একেবারে বানানো গল্প । কারো সাথে কখনো ওরকম কিছু হয়নি । কেউ ওরকম করে না । কোন সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষের পক্ষে ঐগুলো করা তো দূরের কথা চিন্তা করাও সম্ভব নয় । পেটে লাল নীল পানি না পড়লে বা গাঞ্জার কল্কিতে দু’টান মেরে না আসলে ঐরকম গালগল্প লিখা সম্ভব না ।
২) অন্তরঙ্গতার পদ্ধতি, সময় , ফ্রিকোয়েন্সি ঐগুলাও অবাস্তব । কোন স্বাভাবিক নারী পুরুষের পক্ষে ওদের মতো করে এত সময় ধরে বা এত ঘন ঘন অন্তরঙ্গ থাকা সম্ভব নয় ।
৩) নারী বা পুরুষের প্রাইভেট পার্টস এর যে বর্ণনা আপনি পড়ছেন, তার সবকিছুই ঢাহা মিথ্যে , অতিরঞ্জিত ।
৪) কোন স্বাভাবিক নারী পুরুষের পক্ষে অন্তরঙ্গতার সময় এত নির্লজ্জ হওয়া সম্ভব না । কেউ ওরকম খিস্তি খেউর করেনা , পশুর মতো চিৎকার চেঁচামেচি করে না ।
৫) চটি গল্পে মামী , ভাবী, চাচী , খালা , কাজিন , বোন , মা (লিখতে খুবই অস্বস্তি লাগছে, আল্লাহ্‌ আমাদের এইসব জঘন্য কাজ থেকে রক্ষা করুক , যারা এসব লিখে আল্লাহ্‌ তাদের হেদায়াত দিক অথবা ধ্বংস করে দিক) বান্ধবীদের সঙ্গে লীলাখেলার যে কাহিনী আপনি পড়ছেন এবং তার অনেকটা সত্য বলে ধরে নিয়েছেন তার পুরোটাই মিথ্যে । পাশের বাসার আন্টি , কাজের মেয়ে , টীচারদের নিয়ে যে গল্পগুলো পড়েছেন সেগুলোও ভুয়া ।
চটি গল্প গুলো বের হয় সাধারণত প্রচন্ড সেক্স পারভারট একদল মানুষের (আসলে জানোয়ার , মানুষ না) গাঞ্জার ধোঁয়ার আচ্ছন্ন বিকৃত মস্তিষ্ক থেকে । নিজের কিছু করার মুরোদ নেই , অথচ মনে প্রচন্ড খিদে - কি আর করবে বেচারারা ! তাই মনের জঘন্য চিন্তা গুলো লিখে আর তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করে । কিন্তু এগুলোকেই ধ্রুব সত্যি মনে করে বেড়ে উঠছে একটা জেনারেশানের ছেলেমেয়ে । কোন দিকে কি যাচ্ছে আমাদের সমাজটা তা কি ভাবার সময় আসেনি ?

ধর্ষিত ছেলে

#ছেলেদের অদ্ভুত এক জীবন........
.
.

..
২২ বছর বয়সে যখন বান্ধবিদের বিয়ের সিরিয়াল
চলতে থাকে তখনো সমাজ ছেলেদের বলে
অনার্স এর "বাচ্চা ছেলে"!
..
..
২৪ বছরে মেয়েরা যখন পড়াশুনা প্রায়
ক্ষ্যান্ত দিতে যাচ্ছে তখন ছেলেটার যেন যুদ্ধ
শুরু!
..
..
নেশাগ্রস্ত হতাশাগ্রস্ত যাই হোক না কেন,
যে ছেলেটার নিজেরই চাল চুলো নেই তাঁকেও
যেন বহুবার ভাবতে হয় ইনকাম না করলে বিয়ে হবে না
তাঁকেও দায়িত্ব নিতে হবে,
সংসার, বউ, বাচ্চার !
..
..
নীরব কাঁন্নায় কাউকে খুঁজে না পেলেও
একটা কথা সমাজ, আত্নীয় স্বজন, পরিবার ঠিকই মনে
করিয়ে দিবে- "ছেলে কি করে ?
প্রতিষ্ঠিত তো'' ?
..
..
"অনার্স মাস্টার্স শেষ মেয়েটার জন্য শত
বিয়ের অপশন পরিবার দিলেও,
ছেলেটার সামনে একটাই অপশন ,
"কিরে আর কবে চাকরি পাবি''!
..
..
বিশ্ববিদ্যালয়ের অাগুন ঝরা দিন গুলোতে
প্রফেসর লেকচারে বলতেন "রিযিক অাল্লাহর হাতে, এটা নিয়ে দুঃশ্চিন্তা করবে না"
অথচ, তিনিও মেয়ের জন্য
সরকারি চাকরিওয়ালা ছেলে চান!
..
..
চাকরি করে ভাই বোনদের সেটেল করতে বা
বাবার হাতকে শক্তিশালী করে বাসা বাড়ি একটু
সাজাতে বয়স পেরিয়ে যায়, ছেলেটার
খেয়াল থাকে না।
..
..
এতদিন পরে একটু স্বচ্ছল!
সুন্দরি মেয়ে খুঁজলেও যেন অনেকেই বলে,
এই, বুইড়া ব্যাটা সম্পদ লোভী আবার
অল্প বয়স্ক মাইয়াও খুঁজে!"
..
..
বিয়ের পর-
পরিবার আর বাচ্চাদের কথা ভেবেই
পাড়ি দেয় বিদেশে একা !
..
..
কিংবা সন্তানের শহরের স্কুল কলেজের কথা
ভেবে নিজেই একা মেসে থাকে।
হয়তো পরিবার থেকে চাকরিস্থল অনেক দূরে।
..
..
মেছে কাজের বুয়ার রান্না, একাকী বিষণ্ণতা আর
কোনো জেলা/উপজেলায় পাক্ষিক-মাসিক জার্নি
করতে করতে কখন হাড় ক্ষয় হয়, ডায়াবেটিস
বাঁধে খেয়ালও থাকে না ছেলেদের
..
..
বাবা মায়ের মুখ উজ্জ্বল করতে যে ছেলেটার
ছোট বেলায় স্বপ্ন শুরু, সংগ্রামের যৌবন কাল এবং কি নিজের ভালোবাসার মানুষটা কেউ ত্যাগ করে,
আর শেষ বয়সে এসেও সন্তানের ভবিষ্যৎ
উজ্জ্বল করতে যুদ্ধ যেন আর শেষ হয় না !
তবুও এই সমাজ বলে- "আহ !
ছেলেরা কত স্বাধীন !
এতো কিছু করার পরও
মেয়েরা বলে "ছেলেরা ভালবাসতে জানে না"
ছেলেদের মন কঠিন, ছেলেদের প্রতি কোন বিশ্বাস নেই, মূলত ছেলেরাই বুঝবে ছেলেদের কষ্ট গুলো !!!